শিলিগুড়ি , ৭ অগাষ্ট : দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত হল শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসজেডিএ)। প্রায় আড়াই বছর পর আয়োজিত এই বৈঠকে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে জমি, পরিবহন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিকেরয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ , পরিবহন ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
বৈঠকে আগামী দিনে প্রায় ১০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্ষা পর্ব শেষ হওয়ার পর রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, শ্মশান এবং পথবাতি-সহ বিভিন্ন নাগরিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শহরের বাণিজ্যিক পরিকাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি বাস টার্মিনাসের বিপরীতে থাকা পুরনো এল-৪ ও এল-৫ ভবন ভেঙে সেখানে নতুন বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পুরনো এসজেডিএ মার্কেট সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কাওয়াখালির ল্যান্ড লুজারদের সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি। গত ১৫ বছরে এসজেডিএ-র আয় ও ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখতে বিশেষ অডিটের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসছে ।
এছাড়াও ফ্ল্যাট বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে থার্ড-পার্টি তদন্ত এবং ইকো-সেনসিটিভ এলাকায় বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ যাচাই করতে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকের পর পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না। প্রয়োজন হলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

