শিলিগুড়ি , ১২ জুলাই : উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের সংকট , বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানের ভবিষ্যৎ এবং শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা । বৈঠকে উত্তরবঙ্গের ৩৫ টি চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট ও একাধিক প্রস্তাব শ্রমমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি অমরনাথ ঝা জানান , শ্রমমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের মোট ৪২০ টি চা বাগানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন । সেই অনুযায়ী কোন বাগান বন্ধ , কোনগুলি রুগ্ন (সিক) অবস্থায় রয়েছে এবং শ্রমিকদের কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে , তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাস পর ফের বৈঠক হবে। সেখানে বন্ধ চা বাগান পুনরায় চালু করা এবং রুগ্ন বাগানগুলিকে সচল করার জন্য সরকার ও মালিকপক্ষের করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে ।
সংগঠনের দাবি , বর্তমানে উত্তরবঙ্গে প্রায় ৩২টি চা বাগান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই সমতল এলাকার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় অবস্থিত। পাহাড়ে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক বাগান বন্ধ রয়েছে । এছাড়াও প্রায় ৪০ থেকে ৪২টি চা বাগান বন্ধ বা রুগ্ন অবস্থায় রয়েছে। রুগ্ন বাগান বলতে এমন বাগানকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি বা অন্যান্য প্রাপ্য সময়মতো দেওয়া হয় না।
অমরনাথ ঝা বলেন, উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের সঙ্গে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ স্থায়ী শ্রমিক এবং অস্থায়ী শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় নয় লক্ষ মানুষের জীবিকা জড়িত। এর মধ্যে বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানের কারণে অন্তত ৫০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

