শিলিগুড়ি , ২ অগাষ্ট : উত্তরবঙ্গের অন্যতম সবুজ অঞ্চল বৈকুণ্ঠপুরে গড়ে উঠতে চলেছে ‘নগর বন’ (Nagar Van) প্রকল্প । রবিবার বিকেলে বৈকুণ্ঠপুর নগর বন এলাকা পরিদর্শন করলেন রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজ ওরাও । তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ , জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় এবং বন দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা ।
প্রকৃতি সংরক্ষণ , পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইকো-ট্যুরিজমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্রের এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবে ।
বৈকুণ্ঠপুরের প্রায় ১৫০ হেক্টর বনভূমিকে ঘিরে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে । প্রথম পর্যায়ে ৫০ হেক্টর এলাকায় সরাসরি উন্নয়নের কাজ শুরু হবে । পরবর্তীতে বাকি এলাকায় বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে । তবে প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সেদিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে । শুরুতে পুরো এলাকা ফেন্সিং করা হবে এবং এরপর পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে ।
পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান , বনমন্ত্রী মনোজ ওরাও কে আবেদন করেন তিনি যাতে ওই এলাকাটিকেএক নতুন পরিচয় দেওয়া যায় | সেই অনুযায়ী বনমন্ত্রী নিজে বৈকুণ্ঠপুরে এসে পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন । শংকর ঘোষ বলেন , ১৫০ হেক্টরের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় একই সঙ্গে বন, নদী ও গ্রাসল্যান্ডের বিরল সমন্বয় রয়েছে , যা দেশের অন্যত্র খুব কমই দেখা যায়।
এই বৈচিত্র্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই নগর বন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে এবং ভবিষ্যতে এটিকে ভারতবর্ষের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, পর্যটনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তার দাবি, ভবিষ্যতে বৈকুণ্ঠপুর নগর বন শুধু বাংলার নয় , গোটা দেশের এবং বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই এলাকার পরিচিতি বাড়বে।
অন্যদিকে জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় বলেন , বৈকুণ্ঠপুর শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের মতো বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগ রয়েছে । পাশাপাশি জঙ্গল , নদী এবং বিভিন্ন ভাষাভাষী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সহাবস্থান এই এলাকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে ।
তার মতে, বন ও পর্যটন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে নগর বন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৈকুণ্ঠপুর বিশ্বমানের পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ স্থান করে নেবে এবং এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

