শিলিগুড়ি , ২২ অগাষ্ট : কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ও তারাপিঠের হোটেলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল ও লজগুলির অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে | সেই আবহেই শনিবার সকাল থেকে শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেল ও লজে অগ্নি নিরাপত্তা পরিদর্শনে নামলেন দমকল বিভাগের আধিকারিকরা।
এদিন একাধিক হোটেল ও লজে গিয়ে অগ্নি নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন দমকল আধিকারিকরা। হোটেলের ঘরগুলি খুলে পরিদর্শন করা হয় , জরুরি পরিস্থিতিতে ঘরের জানালা সঠিকভাবে খোলা যায় কি না , বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কী কী রয়েছে এবং কোথায় কী ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে সেই সমস্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয় ।
জলপাইগুড়ি ফায়ার ডিভিশনের ওসি অম্বর দেব বলেন একটি হোটেল বা লজে কতগুলি এসি রয়েছে , জলের পাম্প ঠিকমতো কাজ করছে কি না এবং আগুন লাগলে পর্যাপ্ত জল সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে কিনা। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের মালিক ও কর্মচারীরা কীভাবে আগুন মোকাবিলা করবেন , জরুরি পরিস্থিতিতে অতিথিদের কীভাবে নিরাপদে বের করে আনবেন এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কীভাবে ব্যবহার করতে হয়—সেসব বিষয়েও সতর্কতার বার্তা দেওয়া হয় | জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় | কিছু কিছু হোটেল বা লজে এইসব কিছুই নেই তাদেরকে বলা হয়েছে অতি শীঘ্রই সেগুলো করে নিতে না হলে আগামীতে অন্য ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় হোটেলে থাকা ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলির মেয়াদ ঠিক রয়েছে কি না , সেগুলি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে কিনা এবং অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রয়োজনীয় জলের ব্যবস্থা ও অন্যান্য নিরাপত্তা পরিকাঠামো যথাযথ রয়েছে কিনা , তাও পরীক্ষা করা হয় ।
দমকলের এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য , কোনও হোটেল বা লজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং অতিথি ও কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়, তা নিশ্চিত করা। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একাধিক হোটেল ও লজ থাকায় এই ধরনের অগ্নি নিরাপত্তা পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এবং আগামীতেও শহরের সমস্ত জায়গায় এই অভিযান চলবে বলেই জানা যাচ্ছে।

