Khabar Samay Bangla Blog ঘটনা Death : পুলিশকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য
ঘটনা

Death : পুলিশকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

শিলিগুড়ি , ২২ জুলাই : শিলিগুড়ির নিউ কলোনিতে রহস্যজনক মৃত্যু পুলিশ কর্মীর |

শিলিগুড়ির ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ কলোনি এলাকায় এক পুলিশকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে । মৃতের নাম কৃষ্ণ মোহন ঝা । তিনি পুলিশ বিভাগে ইসলামপুরে কর্মরত ছিলেন । ঘটনাটি প্রধাননগর থানার অন্তর্গত ।

পরিবার সূত্রে জানা যায় , মঙ্গলবার গভীর রাত প্রায় ৩টা নাগাদ কৃষ্ণ মোহন ঝার মেজো ছেলে বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ওঠে । সে বাথরুমে গিয়ে দেখতে পায়, তার বাবা মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন । সঙ্গে সঙ্গে সে তার মা পুতুল ঝাকে ডাক দেয়। পুতুল দেবী ছুটে এসে স্বামীকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রথমে ধারণা করেন তিনি হয়তো অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা এবং পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশীর সহায়তায় কৃষ্ণ মোহন ঝাকে বাথরুম থেকে বাইরে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে প্রধাননগর থানায় জানানো হয়। থানার পক্ষ থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয় এবং তাকে দ্রুত শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পর থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে । মৃতের স্ত্রী পুতুল ঝার অভিযোগ , এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় , বরং পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে খুন করা হয়েছে ।

পুতুল ঝা জানান, “আমার স্বামী রাত প্রায় ১১টা নাগাদ নিজের স্কুটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তার পকেটে বাড়ির চাবিও ছিল। কিন্তু পরে যখন তাকে বাড়ির বাথরুমে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়, তখন তার স্কুটিটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার পকেটেও বাড়ির চাবি ছিল না। বাড়ির কোথাও সেই চাবি পাওয়া যায়নি। এই বিষয়গুলো আমার কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, কেউ বা কারা আমার স্বামীকে খুন করেছে। এরপর গোপনে তাঁর দেহ আমাদের বাড়ির বাথরুমে এনে ফেলে রেখে যায়। পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এই রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। পাশাপাশি নিখোঁজ স্কুটি, বাড়ির চাবি এবং ঘটনার আগের ও পরের সমস্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version