শিলিগুড়ি , ২৫ সেপ্টেম্বর : চা বাগানগুলির একাধিক সমস্যা এবং চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি গুলি নিয়ে শুক্রবার শ্রমিক ভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হল । দাগাপুর কমপ্লেক্সের শ্রমিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং , দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা সহ শ্রম দপ্তরের আধিকারিক এবং একাধিক চা বাগানের মালিক প্রতিনিধিরা ।
পুজোর আগে চা শ্রমিকদের বোনাস এবং বন্ধ চা বাগান খোলার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় । বৈঠক শেষে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানান , নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চা বাগান ও চা শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে । গত চার মাস ধরে এই বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি । তার দাবি, পুজোর আগেই চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস নিশ্চিত করতে হবে। এদিনের বৈঠকে চা বাগান কর্তৃপক্ষগুলিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দিতে হবে।
পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চা বাগান নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানান সাংসদ। আগের সরকারের সময়ে শ্রম দপ্তরের নির্দেশিকা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি এবং বহু চা বাগান নিজেদের মতো করে পরিচালিত হয়েছে । রাজু বিস্তার অভিযোগ , এর ফলে একের পর এক চা বাগান দুর্বল হয়েছে এবং শ্রমিকরা সমস্যায় পড়েছেন । বর্তমান সরকার চা বাগানগুলির পরিস্থিতি বদলাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে বলেও জানান তিনি ।
এদিনের বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান রাজু বিস্তা । তার বক্তব্য , আগামী ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত বন্ধ চা বাগান খুলতে হবে । নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাগান না খুললে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে । এমনকি সংশ্লিষ্ট বাগানগুলি অন্য উপযুক্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ করতে পারে বলে জানান তিনি। তিনি জানান , বর্তমানে উত্তরবঙ্গে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি চা বাগান বন্ধ রয়েছে । বন্ধ বাগানগুলির কারণে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার চা শ্রমিক ও তাদের পরিবার সরাসরি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ।
তাই পুজোর আগে শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্ধ বাগান দ্রুত খোলার বিষয়েও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
