শিলিগুড়ি , ৭ সেপ্টেম্বর : বেড়েছে প্রতিমা তৈরির মাটির দাম । প্রতিমা তৈরির প্রায় সমস্ত উপকরণের দামই বৃদ্ধি পেয়েছে । তাই চরম দুশ্চিন্তায় শিলিগুড়ির কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা।
কেউ ব্যস্ত গণেশের মূর্তির শেষ মুহূর্তের কাজ নিয়ে , কেউ আবার তৈরি করছেন বিশ্বকর্মার প্রতিমা। তৈরি হচ্ছে নানা আকৃতির , নানা রকমের কিউট গণেশ। তবে ব্যস্ততার মধ্যেও শিল্পীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ তো রয়েছে । কারণ প্রতিমা তৈরির মাটি , বাঁশ , সুতলির দড়ি , কাপড় , রং থেকে শুরু করে অলংকার—প্রায় প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে । ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে প্রতিমা তৈরির খরচও ।
কিন্তু খরচ বাড়লেই তো আর ইচ্ছেমতো প্রতিমার দাম বাড়ানো যাচ্ছে না |
তাই এবার মৃৎশিল্পীরা ‘অর্ডার অনুযায়ী কাজ’ এই নীতিতে এগোচ্ছেন । অর্ডার ছাড়া বাড়তি প্রতিমা তৈরি করে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অধিকাংশ শিল্পীই ।
গণেশ পুজোর আর মাত্র ৭ দিন বাকি । হাতে থাকা অর্ডারের প্রতিমাগুলি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছেন মৃৎশিল্পীরা ।
অন্যদিকে আসন্ন দুর্গাপুজো । হাতে আর মাত্র এক মাস । ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দুর্গাপুজোর প্রতিমার অর্ডার এসে পৌঁছেছে কুমোরটুলিতে। কিন্তু বাড়তি প্রতিমা তৈরি করার ক্ষেত্রে এবার পাঁচবার ভাবছেন শিল্পীরা ।
মৃৎশিল্পীদের আশঙ্কা , এবার সব পুজো কমিটি সরকারি সহায়তা নাও পেতে পারে । ফলে পুজোর বাজেট কমলে তার প্রভাব পড়তে পারে প্রতিমা কেনার ক্ষেত্রেও । আর সেই কারণেই অর্ডার ছাড়া প্রতিমা তৈরি করে টাকা আটকে রাখার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না তারা।
একদিকে বাড়ছে কাঁচামালের দাম, অন্যদিকে প্রতিমার দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা । দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে অনেকটাই হিসেব কষে পা ফেলছেন মৃৎশিল্পীরা ।
তবুও উৎসবের মরশুমে থেমে নেই কুমোরটুলি । দিন-রাত এক করে চলছে মাটির সঙ্গে শিল্পীদের লড়াই। তাদের হাতের ছোঁয়াতেই ধীরে ধীরে প্রাণ পাচ্ছেন সিদ্ধিদাতা গণেশ, বিশ্বকর্মা এবং মা দুর্গা।

