শিলিগুড়ি , ১ অক্টোবর : শিলিগুড়ি শহরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED এর অভিযান । শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একসঙ্গে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। শিলিগুড়ি শহরের মোট ছয়টি জায়গায় ED-এর প্রতিনিধি দল অভিযান চালায় ।
সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয় জল্পনা । সূত্রের খবর , অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল শিলিগুড়ির বর্ধমান রোড। সেখানে সন্দীপ বৈদ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ED-এর আধিকারিকরা প্রথমে পৌঁছান । এরপর বাড়ির ভিতরে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চলে । বিভিন্ন নথিপত্র , আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হয় বলে সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ির পরিচিত ব্যবসায়ী তথা সুপারি ব্যবসায়ী ধীরাজ ঘোষের বাড়িতেও ED-এর অভিযান চলে । সেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা বিভিন্ন নথি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরীক্ষা করছেন । অভিযানকে ঘিরে ওই এলাকায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয় ।
শুধু বর্ধমান রোড বা ধীরাজ ঘোষের বাড়ি নয় , শহরের আরও বেশ কয়েকটি জায়গাতেও একই সময়ে ED-এর আধিকারিকরা পৌঁছে তল্লাশি চালান। একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চলায় স্বাভাবিকভাবেই শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে ।
বর্ধমান রোডে সন্দীপ বৈদ এর বাড়িতে প্রথম অভিযান, সুপারি ব্যবসায়ী হিরেশ ঘোষের বাড়িতেও চলে তল্লাশি।
তবে কোন নির্দিষ্ট মামলার তদন্তের সূত্র ধরে এই অভিযান, অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, কিংবা তল্লাশিতে এখনও পর্যন্ত কী কী নথি বা সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে—এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোন বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রের খবর , তল্লাশির সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা হয় । তবে উদ্ধার বা বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত কোনও তথ্য সরকারি ভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ED-এর এই একযোগে অভিযানকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ির ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একই সময়ে তল্লাশি চলায় অভিযানের আসল কারণ কী, তার সঙ্গে কারা যুক্ত এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
এদিকে, ধিরজ ঘোষের বাড়িতে ED-এর অভিযান এখনও চলায় পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে। অভিযান শেষ হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ, নথি জব্দ বা অন্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযানের উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
