শিলিগুড়ি , ২৯ অক্টোবর : নারী সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের আবহে ছাত্রীদের আত্মরক্ষায় আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP)। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত শিলিগুড়ির শালবাড়িতে বনবাসী কল্যাণ আশ্রমে আয়োজিত হতে চলেছে ABVP এর উত্তরবঙ্গ প্রদেশের ‘মিশন সাহসী’ প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ বর্গ । এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্কুল , কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল শেখানো হবে । বৃহস্পতিবার ABVP এর উত্তরবঙ্গ প্রদেশ কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয় ।
ABVP-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে , ‘মিশন সাহসী’র মূল লক্ষ্য ছাত্রীদের আত্মরক্ষার কৌশলে প্রশিক্ষিত করে তোলা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা । উত্তরবঙ্গের ১২টি সাংগঠনিক জেলা থেকে ছাত্রীরা এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন । প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত ১৫ জন করে ছাত্রী আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে । তবে ইতিমধ্যেই আরও অনেক ছাত্রী এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণের অন্যতম বিশেষত্ব হল, দৈনন্দিন জীবনে হাতের কাছে থাকা সাধারণ জিনিস ব্যবহার করেই কীভাবে আত্মরক্ষা করা যায়, তা শেখানো হবে। ওড়না, চুলের ক্লিপ, কলমের মতো পরিচিত জিনিসকে কাজে লাগিয়ে বিপদের মুহূর্তে কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব, সেই বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ছাত্রীরা পরবর্তীতে নিজেদের জেলায় ফিরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাসে অন্য ছাত্রীদেরও আত্মরক্ষার কৌশল শেখাবেন। ফলে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে বৃহত্তর সংখ্যক ছাত্রীর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান , এবারের শিবিরে তিনজনের পাশাপাশি আরও দু’জন পেশাদার প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ দেবেন বলে জানানো হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলায় আত্মরক্ষার দক্ষতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ABVP-র ।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য তথা রাজ্য গার্লস ইনচার্জ পূজা রাম, রাজ্য যুগ্ম সম্পাদক অদিতি বিশ্বাস, রাষ্ট্রীয় কলামঞ্চের কনভেনার সুস্মিতা অধিকারী এবং স্নেহা রায়। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে ছাত্রীদের আত্মরক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য।

