শিলিগুড়ি , ২০ অগাষ্ট : শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে দিনভর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। প্রায় তিন দফায় বিভিন্ন সরকারি আধিকারিক , হোটেল ব্যবসায়ী ও ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্কুলের আধিকারিক ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে শিলিগুড়ির পুর পরিষেবায় অনিয়মের অভিযোগ, হোটেলের অগ্নি-নিরাপত্তা, স্কুলপড়ুয়াদের বাইক-স্কুটি ব্যবহার এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দিনের প্রথম বৈঠকটি হয় শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনার ও আধিকারিকদের সঙ্গে । বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শংকর ঘোষ জানান , পুরনিগম সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে বৈঠকে । ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে , আবার কিছু ক্ষেত্রে আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে । কোনও পক্ষকেই রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন মন্ত্রী । অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ওয়ার্ডগুলিতে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে । এই পরিস্থিতিতে ওয়ার্ড ভিত্তিক মানুষের সমস্যা যাতে দ্রুত সমাধান করা যায় , সে বিষয়ে পুরনিগমের আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । ওয়ার্ডের আধিকারিক এবং পুরনিগমের অন্যান্য আধিকারিকরা যাতে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করেন , সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে । পাশাপাশি কোনও ধরনের অনিয়ম যাতে না হয়, সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ WhatsApp হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী । পুর পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে সেই মাধ্যমে মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।
বৈঠকে হোটেল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয় । সরকার এবং হোটেল ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে হোটেলের কর্মীদের জন্য বিশেষ ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয় । বিষয়টি মন্ত্রীর পছন্দ হয়েছে বলে জানান তিনি । খুব শীঘ্রই এই প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে জানানো হবে এবং হোটেল মালিকদের পাশাপাশি তাদের কর্মীদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন শংকর ঘোষ।

