শিলিগুড়ি , ১৯ মে : শিলিগুড়ি হাকিমপাড়ায় ১৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সম্পূর্ণা গুণ এর সঙ্গে গতকাল দেখা করলেন শহরের কিছু শুভানুধ্যায়ী | সৌম্য বিকাশ গুণ এবং মৌসুমী গুণের মেয়ে সম্পূর্ণা | উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে অত্যন্ত ভাল ফলাফল করেছেন সম্পূর্ণা |
২০১৮ সালে একটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সৌম্য বিকাশ গুণ এর ।
সৌম্য বিকাশ ওরফে বাবুন বাম যুব আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা এলাকার একজন দায়িত্ববান সংগঠক। বাবুন মানে আশপাশের চারিদিকের যে কোন মানুষের কোন সমস্যা হলে তা নিরসনের চাবিকাঠি ছিল ।
বাবুন এর বাবা প্রয়াত হরিদাস গুণ ছিলেন আপাদমস্তক একজন বামপন্থী নেতা । বিশেষ করে শিক্ষক সমাজের মধ্যে ওনার জনপ্রিয়তা ছিল শীর্ষে । তিনি শিক্ষকতা করতেন শিলিগুড়ি নীলমণি বিদ্যামন্দিরে।
বাবুন চলে যাওয়ার পর অথৈ জলে পড়েন বাবুনের স্ত্রী মৌসুমী এবং তার একমাত্র কন্যা সম্পূর্ণা। আশেপাশের মানুষ বলতে কয়েকজন বাবুনের স্ত্রী এবং তার মেয়েকে রীতিমতো আগলে রাখেন।
বাবুনের মৃত্যু হয় শিলিগুড়ি পুরনিগমের জঞ্জাল বিভাগের একটি গাড়ির পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে । প্রায় ২৫ দিন দীর্ঘ লড়াই করবার পর কলকাতার একটি হাসপাতালে সৌম্য বিকাশ গুণ প্রয়াত হন।
তৎকালীন পুরনিগমের পক্ষ থেকে তার স্ত্রী মৌসুমীকে একটি ডেলিওয়েজ সিস্টেমের কাজে নিযুক্ত করা হয় । সংসার চালানো খুব কষ্টের হয়ে পরে | পরে তার মেয়ের পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সন্ধ্যা বেলায় আরও একটি পার্টি টাইম কাজে যোগ দেন ।
আর্থিক প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে সম্পূর্ণা উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে অত্যন্ত ভালো ফল করেছে । তাই আগামীদিনে তার জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানাতে তার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন মাথাভাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর দেবাশীষ দত্ত , পার্থ মৈত্র , জ্যোতি দে সরকার , উজ্জ্বল ঘোষ সহ অন্যরা । সম্পূর্ণার আগামী শিক্ষার ক্ষেত্রে পাশে থাকার বার্তা দেন সকলে ।

