January 27, 2026
Sevoke Road, Siliguri
অপরাধ ঘটনা

Murder : প্রেমিকাকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ প্রেমিকের বিরুদ্ধে , মৃত্যু প্রেমিকার

শিলিগুড়ি , ২৭ জানুয়ারি : প্রেমিকাকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে | গতকাল রাতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে লড়তে প্রাণ হারান প্রেমিকা | আজ তার বাড়িতে নিয়ে আসা হয় মৃতদেহ | ঘটনাটি জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের সন্ন্যাসীকাটা এলাকার |

প্রাক্তন প্রেমিক সরিফুল আলম জেল থেকে ফিরেই নজর রাখছিল প্রাক্তন প্রেমিকা জাহানারা বেগমের দিকে ৷ বুধবার রাতে প্রেমিকাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সরিফুল এমনই অভিযোগ পরিবারের । ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত সরিফুল ও তারা বাবা অগ্নিদগ্ধ মেয়েটিকে উদ্ধার করে একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে । তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায় ।

মৃত যুবতী জাহানারা বেগমের সঙ্গে অভিযুক্ত সরিফুলের অনেক আগে থেকেই সম্পর্ক ৷ সেই সম্পর্কে থাকাকালীন সরিফুল অন্য এক মেয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় ।এরপরও পুরোনো প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ থাকতে চায় সরিফুল ৷

২০২৪ সালের জুলাই মাস নাগাদ সরিফুল প্রাক্তন প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় । সন্ন্যাসীকাটার জমিদার পাড়ায় একটি পরিত্যাক্ত জায়াগায় সহবাস করেন । অন্যদিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ তুলে থানার দ্বারস্থ হন প্রেমিকা । গ্রেপ্তার হয় সরিফুল ৷ সেই সাজা কেটে মাস পাঁচেক পর সে গ্রামে ফেরে । এরপর থেকে নজরে নজরে রাখছিল প্রাক্তন প্রেমিকাকে ।

পরিবারের অভিযোগ , বুধবার প্রায় মধ্যরাতে সরিফুল প্রাক্তন প্রেমিকাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ৷ বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে পরিত্যাক্ত স্থানে নিয়ে গিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ মৃতর পরিবারের ।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সেই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বছর কুড়ির জাহানারা বেগমেকে একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরিয়ে শেষে গিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় শ্বশুর ও জামাই পরিচয়ে ।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেয়ের খোঁজ শুরু করে পরিবার । খোঁজ নিয়ে মৃতার পরিবার জানতে পারে মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন আছে তাদের মেয়ে । অবস্থা আশঙ্কাজনক ।

যুবতীর মামা খলিল মহম্মদ জানান , “আমার ভাগ্নীর বাবা ক্যান্সারে প্রায় বছর তিনেক আগে মারা যায় । ভাগ্নীর মা শয্যাশায়ী । পরিবারের সে একা ৷ একমাত্র উপার্জনকারী। একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত । সরিফুল এর আগেও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করে। ধর্ষণের মামলায় জেল খাটে ।

জেল থেলে ফিরে সে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে উঠে ৷ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় । তার অবস্থা ভালো নয়। নিজেদের শ্বশুর ও জামাই মিথ্যা পরিচয় দিয়ে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করে ৷ এদের ফাঁসির সাজা চাই ৷”

অন্যদিকে এলাকার বিধায়ক খগেশ্বর রায় জানান , “আমরা সম্পুর্নভাবে পরিবারের পাশে রয়েছি। দোষীরা যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায় তার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব।”

জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানান , “ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৷ জিজ্ঞাসবাদ চলছে । মেয়েটির বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে ৷ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *