Khabar Samay Bangla Blog উত্তরবঙ্গ Fire : হানিমুনে গিয়ে বিভীষিকার রাত ! অগ্নিদগ্ধ নববধূ
উত্তরবঙ্গ ঘটনা

Fire : হানিমুনে গিয়ে বিভীষিকার রাত ! অগ্নিদগ্ধ নববধূ

দার্জিলিং , ১৮ সেপ্টেম্বর : হানিমুনে গিয়ে বিভীষিকার রাত | দার্জিলিং জেলার মনোরম পাহাড়ি গ্রাম সিটং এ বারবিকিউ তৈরি করার সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর জখম হলেন নববধূ । অগ্নিদগ্ধ তরুণীর নাম নিকিতা সাহা (দাস) । বর্তমানে শিলিগুড়ির এক নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি | তার শরীরের ৬০% অগ্নিদগ্ধ হয়েছে |

দার্জিলিং জেলার পাহাড়ি গ্রাম সিটং এর একটি হোমস্টেতে এসে ওঠেন চোপড়ার বাসিন্দা ওই দম্পতি । গত ১৩ তারিখ হোমস্টে চত্বরেই তাদের জন্য বারবিকিউ এর বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ , বারবিকিউ বানানোর সময় অসাবধানতাবশত দাহ্য পদার্থ থেকে হঠাৎ আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে । পাহাড়ি অঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া ও ঝোড়ো বাতাসে আগুনের তীব্র শিখা মুহূর্তে গায়ে এসে লাগে নিকিতার । সমীর দাস তড়িঘড়ি আগুন নেভাতে গিয়ে তার হাত পুড়ে যায় | তবে ততক্ষণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন নিকিতা ।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধার করে প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় রাতেই তাকে শিলিগুড়ির বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে আসা হয় ।


ঘটনায় হোমস্টে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন আক্রান্তের স্বামী সমীর দাস । তার দাবি , আগুন নেভানোর জন্য হোমস্টেতে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা জরুরি পরিকাঠামো ছিল না । এমনকি দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার হাত বাড়ানো হয়নি । প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাহাড়ি পথ পেরিয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছতেই প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায় , যা রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল ।


কার্শিয়াং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সমীর দাস। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও হোমস্টে কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে । অগ্নিকাণ্ডের উৎস কী ছিল , আগুনে অতিরিক্ত কোনো দাহ্য তরল ঢালা হয়েছিল কিনা এবং নিরাপত্তায় কার গাফিলতি ছিল তা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খতিয়ে দেখছে পুলিশ ।


পাহাড়ে পর্যটনের মরশুমে হোমস্টে ও রিসোর্টগুলিতে ক্যাম্পফায়ার বা বারবিকিউ অত্যন্ত জনপ্রিয় । কিন্তু এই দুর্ঘটনার পর হোমস্টেগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়েছে। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কার্শিয়াং থানার পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version